সাইবার সিকিউরিটি অ্যাক্ট ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের কপি পেস্ট: টিআইবি

৩০ আগষ্ট, ২০২৩ ১৬:০১  

সপ্তাহ তিনেক আগে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বিষয়ে মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছিলো ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ। তবে মঙ্গলবার মন্ত্রীপরিষদ সভায় আইনের সাইবার সিকিউরিটি অ্যাক্ট এর খসড়া অনুমোদনের পর বুধবার নতুন এই আইনটি পাস হলে মানুষের মত প্রকাশের স্বাধীনতা কেড়ে নেয়া হবে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছে সংস্থাটি। আইনটি ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের কপি পেস্ট বলে মন্তব্য করে টিআইবি নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, ‘যেসব কারণে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের বিষয়ে আমাদের উদ্বেগ ছিল, সেগুলো এখনও রয়ে গেছে। কিছুটা বাড়িয়ে-কমিয়ে শুধু খোলস পরিবর্তন করা হয়েছে।’

আলোচিত সাইবার সিকিউরিটি আইনের খসড়া নিয়ে নিজেদের গবেষণা ও পর্যবেক্ষণের ফলাফল তুলে বুধবার রাজধানীর ধানমন্ডির মাইডাস সেন্টারে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিমত প্রকাশ করা হয়। টিআইবি বলছে, সাইবার সিকিউরিটি আইনের খসড়া এখনো সংসদে উঠেনি, তাই এটিকে ঢেলে সাজানোর সুযোগ রয়েছে। আইনটি পাশের আগে সংশ্লিষ্টদের সাথে আলোচনার পরামর্শ দিয়েছে টিআইবি।

সংবাদ সম্মেলনে টিআইবির আউটরিচ অ্যান্ড কমিউনিকেশন পরিচালক শেখ মনজুর-ই-আলম ডিজিটাল আইন ও খসড়া আইনের পার্থক্য তুলে ধরেন।

টিআইবি প্রধান ইফতেখারুজ্জামান বলেন, অনেক জায়গায় যেসব পরিবর্তন হয়েছে তা পরিষ্কার নয়। পুলিশের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে অতিরিক্ত। পুলিশের দক্ষতার প্রশ্ন আছে। যিনি গ্রেপ্তারের ক্ষমতা দেবেন, তাঁকেও জানতে হবে টেকনিক্যাল বিষয়গুলো। কিছু জায়গায় উভয় দণ্ডের কথা বলা আছে, যদিও সেটি পরিবর্তন করা হয়েছে, তবে শব্দ পরিবর্তন হয়নি। যেটা সাইবার অপরাধের বাইরে সেটা বাতিল করা উচিত এই আইন থেকে। 

তিনি আরও বলেন, খসড়া সাইবার নিরাপত্তা আইনে আগের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মতো দুর্বলতা রয়ে গেছে। দুর্বলতা বললে কম হয়ে যায়, অর্থাৎ যেসব কারণে সাধারণ মানুষের উদ্বেগ ছিল আগের আইনে, নতুন খসড়াতেও সেসব বিষয় রয়ে গেছে। যার মধ্যে অন্যতম বাকস্বাধীনতা, মত প্রকাশের অধিকার, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এই বিষয়গুলো খর্ব করার মতো অনেক উপাদান এই খসড়া আইনে রয়ে গেছে। যদিও শাস্তির পরিমাণ কমান হয়েছে, এতে আমরা সাধুবাদ জানাই। কিন্তু অন্যদিক থেকে এটা নিবর্তনমূলক আইন হচ্ছে।

এদিকে মঙ্গলবার আইন পাশের আগেই ‘সাইবার নিরাপত্তা আইন নিয়ে সংসদীয় কমিটিতে অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা হবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।